Wednesday, 16 March 2022

ভোলায় এসেই বলসুন্দরীর বাজিমাত

 


দক্ষিণাঞ্চলীয় ভোলায় অনেক দিন ধরেই বাউকুল, নারকেলি কুল, টক বোল বরই, মিষ্টি বোল বরই, খুদে আপেল কুলসহ বিভিন্ন কুলের চাষ হচ্ছে। এবার শুরু হয়েছে বলসুন্দরী ও কাশ্মীরি আপেল কুলের বাণিজ্যিক আবাদ। প্রথমবারেই নতুন দুই জাতের কুলের বাম্পার ফলন হয়েছে। দামও মিলছে বেশ ভালো। ফলে অনেক কৃষকের ভাগ্য খুলে যাচ্ছে।

স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে ভোলা জেলায় প্রায় ২৫০ হেক্টর জমিতে হরেক রকমের কুলের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ফলনে সবচেয়ে এগিয়ে আছে বলসুন্দরী ও কাশ্মীরি আপেল কুল। এর মধ্যে কাশ্মীরি আপেল কুল দেখতে অনেকটাই ছোট আকারের অস্ট্রেলিয়ান আপেলের মতো সবুজ ও হালকা হলুদাভ লাল রঙের। আর বলসুন্দরী আকারে একটু বড়। দেখতে সবুজাভ, তবে কোনো কোনোটিতে লালচে আভাও দেখা যায়। গত বছর এ জেলায় প্রায় ২০০ হেক্টরে কুলের আবাদ হয়েছিল।

 

কৃষিবিদেরা বলছেন, ভোলার মাটি উর্বর হওয়ার পাশাপাশি কৃষকেরা বেশি যত্ন নেওয়ায় নতুন দুই জাতের কুলের ভালো ফলন হয়েছে। প্রচলিত আপেল কুল বা বাউকুলগুলোর চেয়ে এ দুটি আকারে বড়; খেতে মিষ্টি ও রসাল; অধিক পুষ্টিসমৃদ্ধ ও রোগ প্রতিরোধক এবং উচ্চফলনশীল।

ভোলার সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মো. রিয়াজ উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, 'ভোলার বেলে দোআঁশ মাটি ও আবহাওয়া বলসুন্দরী ও কাশ্মীরি জাতের আপেল কুলের জন্য খুবই উপযোগী। অবশ্য যেকোনো ধরনের মাটিতেই, এমনকি লবণাক্ততা ও জলাবদ্ধতার মধ্যেও নতুন দুই জাতের ফলন ভালো হয়। তাই যাঁদের জমি আছে, তাঁদের পাশাপাশি বেকার যুবকেরাও বলসুন্দরী ও কাশ্মীরি কুলের আবাদ করে স্বাবলম্বী হতে পারেন।'

 

সম্প্রতি ভোলার বিভিন্ন বাজারের ফল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা কুল ৫০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। ভোলায় উৎপাদিত কুল পাইকারিতে ৬০ থেকে ৭০ টাকা আর খুচরা পর্যায়ে ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। জেলার সদর রোডের ক্রেতা জামাল উদ্দিন বলেন, ভোলার খেতে উৎপাদিত কুল-বরই বেশি মিষ্টি। এগুলো সাধারণত লোকাল বাজারে বিক্রি হয়। তবে শহরে উঠলে ভালো দামে বিক্রি হয়।

ভোলার রাজাপুর ইউনিয়নের চরমনষা গ্রামের সবুজ বাংলা কৃষি খামারের পরিচালক ও ভোলা জেলার শ্রেষ্ঠ কৃষক পুরস্কার পাওয়া (২০২০-২১) ইয়ানুর রহমান ওরফে বিপ্লব মোল্লা জানান, তাঁর একেকটি গাছে ৩০০ কেজির বেশি বলসুন্দরী ও কাশ্মীরি আপেল কুল ধরেছে। খরচ হয়েছে প্রায় এক লাখ টাকা। আর বিক্রি ১২-১৩ লাখ টাকা হবে বলে আশা করেন। খামারে পাইকারদের কাছে মৌসুমের শুরুতে তিনি প্রতি কেজি ৭০ টাকায় বিক্রি করেন।

 

 


শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: