নগরে সিএনজি অটোরিকশা চালান মো. জহির। করোনার টিকা নিতে ইতিমধ্যে করেছেন রেজিস্ট্রেশন।২৬ ফেব্রুয়ারি টিকার ১ম ডোজ বন্ধের ঘোষণায় তিনিও এসেছেন টিকা নিতে। দাঁড়িয়েছেন দীর্ঘ লাইনে।কিন্তু এসএমএস না আসায় টিকা নিতে পারবেন কি-না তা নিয়ে শঙ্কায় তিনি।সিটি করপোরেশন জেনারেল হাসপাতালে টিকা নিতে আবেদন করেছি।কিন্তু মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও এসএমএস আসেনি। টিকাও নিতে পারছি না।এমন পরিস্থিতিতে ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রথম ডোজ বন্ধ করে দিচ্ছে। তাহলে আমরা কিভাবে টিকা পাবো।
তিনি বলেন, প্রতিদিন গাড়ি নিয়ে রাস্তায় নামতে হয়। সঙ্গে টিকার কার্ড না থাকলে যদি পুলিশ ধরে তখন কি করবো? তাই আগেভাগে টিকা নিতে এসেছি৷ জানি না পাবো কি-না।
জহিরের মত এমন অনেকে রেজিস্ট্রেশন করে টিকা নেওয়ার অপেক্ষায় আছেন৷ লালখান বাজার এলাকার বাসিন্দা ফারহানা আক্তার তানিয়াও আছেন একই সমস্যায়। তিনি পড়ছেন নগরের ওমরগণি এমইএস কলেজে। টিকার জন্য রেজিস্ট্রেশন করলেও এখনও নিতে পারেননি। ফলে ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ক্লাস শুরু হলে সশরীরে ক্লাস করা নিয়ে শঙ্কায় তিনি।
তানিয়া বলেন, ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সার্ভারে রেজিস্ট্রেশন করেছি এবং করোনার টিকার জন্য সুরক্ষা অ্যাপেও রেজিস্ট্রেশন করেছি৷ কোনও জায়গা থেকে সাড়া মিলছে না। এ অবস্থায় ২৬ ফেব্রুয়ারি টিকার প্রথম ডোজ বন্ধ করে দিলে আমরা টিকা কিভাবে পাবো’।
এ ব্যাপারে সিভিল সার্জন ডা. মো. ইলিয়াস চৌধুরী বাংলানিউজকে বলেন, সরকার চায় ২৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে দেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জনগণকে টিকার আওতায় আনতে। আমরাও সে লক্ষ্যে কাজ করছি। টিকার মজুদও রয়েছে। যদি কোনও কেন্দ্রে টিকার সংকট তৈরি হয় সেক্ষেত্রে আমরা দ্রুত তা পূরণ করতে পারবো। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সকলকে টিকা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছি।
রেজিস্ট্রেশন করেও এসএমএস না পাওয়ায় টিকা নিতে পারছে না অনেকে- এমন প্রশ্নে সিভিল সার্জন বলেন, সব টিকা কেন্দ্রের একটি সক্ষমতা রয়েছে। তারা সেভাবে কাজ করছে। আশা করি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সবাইকে টিকার আওতায় আনা যাবে। তবে বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগও চিন্তা করছে।
২৬ ফেব্রুয়ারি একদিনেই সারাদেশে করোনাভাইরাসের এক কোটি ডোজ টিকা দেওয়ার লক্ষ্য ঠিক করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। এরপর দ্বিতীয় ও বুস্টার ডোজ কার্যক্রম আরও গতিশীল করা হবে।


0 coment rios: