সিএমপি কোতোয়ালি থানার অভিযানঃ কোটি টাকা আত্মসাৎকারীর সহযোগী গ্রেফতার; উদ্ধার ৩২,৮৯,০০০/- (বত্রিশ লক্ষ ঊননব্বই হাজার) টাকা
চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রধান
মোঃসফর আলী
গত ইং ১৬/০৪/২০২২ তারিখ হতে ২০/০৪/২০২২ইং তারিখ পর্যন্ত বিভিন্ন তারিখ ও সময়ে কোতোয়ালী থানাধীন জুবিলী রোড আমতল শাহ আমানত সিটি কর্পোরেশন মার্কেট এর নিচতলাস্থ মেসার্স এস বি ইলেকট্রনিক্স নামক প্রতিষ্ঠানে ভিতর সহ নন্দনকানন, জুবিলী রোড এলাকার ইলেকট্রিক মার্কেটের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিকট মোঃ ফারুক হোসেন ওয়ালটন হাইটেক ইন্ড্রাষ্টিজ পিএলসি প্রতিষ্ঠানের এলইডি এক্সেসরিজ (ওয়ালটন সেইফ ইমার্জেন্সি বাল্ব, এল ই ডি বাল্ব, টেপ, নেট ফ্যান, সিলিং ফ্যান, চার্জার ফ্যান, ডিবি বক্স, সারফেস প্যানেল লাইট) বিক্রয় করার নামে নগদ ও চেকে এবং ওয়ালটন সেইফ আইপিএস বিক্রয়ের নামে সর্বমোট ১,৫১,০০,৮৫০/- (এক কোটি একান্ন লক্ষ আটশত পঞ্চাশ) টাকা ও পণ্য গ্রহণ করে উহা প্রতিষ্ঠানকে ও দোকানদারদেরকে ফেরত না দিয়ে অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গ করতঃ তার স্ত্রীর সহযোগিতায় অসাধুভাবে আত্মসাৎ করে এবং স্ত্রী সহ পলাতক হয়। এ সংক্রান্তে ওয়ালটন হাইটেক ইন্ড্রাষ্টিজ পিএলসি প্রতিষ্ঠানের রিজিওনাল সেলস ম্যানেজার জনৈক মোহাম্মদ নবী আলম তার বিরুদ্ধে নগরীর কোতোয়ালি থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করেন।
উক্ত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই/মোঃ মেহেদী হাসান বিশ্বস্ত গুপ্তচর নিয়োগ করে অভিযুক্তের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে। একপর্যায়ে গোপন সূত্রে সংবাদ প্রাপ্ত হয়ে সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্স নিয়ে পাবনা সদর থানাধীন রাধানগর যোগীপাড়া মাঠপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মোঃ ফারুক হোসেন এর স্ত্রী নুরজাহান বেগম (২৬) কে গ্রেফতার করেন।
ধৃত ব্যাক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদে আত্মসাৎকৃত টাকা তার বাসার মাটির নিচে লুকায়িত আছে বলে স্বীকার করে। পরবর্তীতে তার দেখানো মতে তার ঘরের মাটির নিচে লুকায়িত ০২টি কলসি এবং ঘরের ভিতরে রক্ষিত ০১টি মুড়ির টিনের কৌটার ভিতর হতে নগদ ৩২,৮৯,০০০/- (বত্রিশ লক্ষ ঊননব্বই হাজার) টাকা উদ্ধার করা হয়।
ধৃত ব্যাক্তির হেফাজত হতে পলাতক মোঃ ফারুক হোসেনের আত্মসাৎকৃত ও কাজে ব্যবহৃত ০১টি ল্যাপটপ, ০১টি মোবাইল উদ্ধারপূর্বক জব্দ করা হয়। অদ্য ০১/০৫/২০২২ইং তারিখ আসামীকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়।
Sunday, 1 May 2022
Tuesday, 15 February 2022
সাতকানিয়ায় নির্বাচন অস্ত্রধারীরা চাকরিজীবী-ফুলবিক্রেতা-গাড়িচালক-জমির দালাল।
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার খাগরিয়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে সহিংসতার ঘটনায় অস্ত্রধারী আট সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। আজ মঙ্গলবার কারওয়ান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন জানান, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি ও ভিডিও ফুটেজ দেখে তাঁরা আসামিদের শনাক্ত করেন। আসামিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অস্ত্র ব্যবহারের কথা স্বীকার করেছেন।গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন নাসির উদ্দিন (৩১), মো. কায়েস (২২), মো. মোরশেদ (২৬), কোরবান আলী (৩৭), মো. ইসমাঈল (৫৫), মো. জসিম (২৪), মো. মিন্টু (২৬) ও মো. নুরুল আবছার (৩৩)। তাঁদের চট্টগ্রাম মহানগর, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, বান্দরবান সদর ও ঢাকা মহানগরে তেজকুনীপাড়া থেকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা র্যাবকে সহিংসতায় ব্যবহৃত তিনটি একনলা বন্দুক, একটি দোনলা বন্দুক, একটি ওয়ান শুটারগান, অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র ও ৪২টি গোলাবারুদ খাগরিয়া থেকে বের করে দেন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে কায়েস, নাসির, মোরশেদ, আবছার ও মিন্টুর বিরুদ্ধে আগেও সাতকানিয়া থানায় মামলা হয়েছে। তাঁরা নিজেদের দুই প্রার্থীর সমর্থক বলে স্বীকার করেছেন। এ দুই প্রার্থী হলেন নৌকার প্রার্থী মো. আক্তার হোসেন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. জসিমউদ্দিন। ৭ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার খাগরিয়া ইউপি নির্বাচনে দুজন প্রার্থীর সমর্থকদের গোলাগুলিতে শিশুসহ দুজন মারা যান। এই ঘটনায় দুটি কেন্দ্রের নির্বাচন স্থগিত করে দেয় নির্বাচন কমিশন। বেশ কয়েকটি মামলাও করা হয়। এরপরই র্যাব সদর দপ্তরের নেতৃত্বে র্যাব-২, র্যাব-৭ ও র্যাব-১৫ অভিযান পরিচালনা করে। আসামিদের গ্রেপ্তার করা হলেও প্রার্থীদের ব্যাপারে র্যাব তদন্ত করবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে খন্দকার আল মঈন বলেন, তাঁদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার নির্বাচন কমিশনের। র্যাব বলেছে, সহিংসতায় নেতৃত্বে ছিলেন মূলত নাসির উদ্দিন ও মো. কায়েস। কায়েস এই অস্ত্র একজনের কাছ থেকে ভাড়ায় এনেছিলেন। সহিংসতায় ব্যবহৃত বিদেশি অস্ত্র ভারত থেকে আসা বলে জানায় র্যাব। র্যাবের সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, মো. কায়েস দুই বছর ধরে চট্টগ্রামে একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন। এর বাইরেও তিনি নিয়মিত সাতকানিয়া উপজেলায় বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত সহিংসতা ও হামলার ঘটনায় নেতৃত্ব দিয়েছেন। এলাকায় তাঁর ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি সন্ত্রাসী দল আছে। তিনি বিভিন্ন মাধ্যম থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র সংগ্রহ করে দলের সদস্যদের সরবরাহ করতেন। নির্বাচনী সহিংসতার ঘটনায় তাঁর নেতৃত্বেই জসিম, মোরশেদ, মিন্টু, আবছারসহ আরও শতাধিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী সাতকানিয়ার খাগরিয়া ইউনিয়নে বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা চালান। এরপরই তিনি ঢাকায় চলে এসে আত্মগোপন করেন।
Saturday, 12 February 2022
জাপান থেকে আসা ২ শিশু আপাতত মায়ের কাছে থাকছে
ঢাকার পারিবারিক আদালতে এ বিষয়ে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জাপান থেকে আসা সেই দুই শিশু তাদের মায়ের কাছে থাকবে বলে আদেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ।
এ বিষয়ে হাইকোর্টের রায় বাতিল করে রোববার (১৩ ফেব্রুয়ারি) প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বে আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।
ঢাকার পারিবারিক আদালতে বাবা ইমরান শরীফের করা মামলা তিন মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ।
আদালতে শিশুদের মায়ের পক্ষে ছিলেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট আজমালুল হোসেন কিউসি ও আহসানুল করীম। সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট শিশির মনির। বাবার পক্ষে ছিলেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট ফিদা এম কামাল, আইনজীবী ফাওজিয়া করিম ফিরোজ ও অনীক আর হক।
গত ২১ নভেম্বর বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ বিষয়ে রায় দেন।
রায়ে আদালত বলেন, এ রিটটি চলবে। দুই মেয়ে পাঁচ নম্বর বিবাদীর (ইমরান শরীফ) হেফাজতে থাকবে। মা দেখা-সাক্ষাৎ এবং একান্তে সময় কাটানোর সুযোগ পাবেন। যেহেতু মা জাপানি নাগরিক এবং সেখানে বসবাস ও কর্মরত আছেন—এ কারণে তিনি তার সুবিধামতো সময়ে বাংলাদেশে এসে শিশুদের সঙ্গে প্রতিবার কমপক্ষে ১০ দিন সময় কাটাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে বছরে তিনবার বাংলাদেশে যাওয়া-আসাসহ ১০ দিন অবস্থানের সব ধরনের খরচ পাঁচ নম্বর বিবাদীকে (ইমরান শরীফ) বহন করতে হবে। এর বাইরে যাওয়া-আসার খরচ দরখাস্তকারী (মা) বহন করবেন। ছুটির দিনে অন্তত দুইবার শিশুদের সঙ্গে ভিডিও কলে মাকে কথা বলিয়ে দেবেন ইমরান শরীফ। গত কয়েক মাসে বাংলাদেশে অবস্থান ও যাতায়াত খরচ বাবদ আগামী সাত দিনের পাঁচ নম্বর বিবাদী দরখাস্তকারীকে ১০ লাখ টাকা দেবেন।
রায়ে আরও বলা হয়, রিটটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আদেশ প্রতিপালিত না হলে বা অন্য কোনো আদেশের জন্য আদালতে পক্ষগুলো আসতে পারবে। সংশ্লিষ্ট সমাজসেবা কর্মকর্তা শিশুদের দেখভাল অব্যাহত রাখবেন। তাকে প্রতি তিন মাস পর পর শিশুদের বিষয়ে হাইকোর্টের রেজিস্ট্রারের কাছে প্রতিবেদন দিতে হবে। জাপানে থাকা ছোট মেয়ে হেনাকে হাইকোর্টে হাজির করানোর নির্দেশনা চেয়ে বাবা ইমরান শরীফের করা রিট খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। পরে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান নাগরিক ইমরান শরীফ ও জাপানি নাগরিক ডা. এরিকো নাকানোর দুই শিশু বাবার জিম্মায় থাকবেন বলে দেওয়া হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করা হয়।
সেই লিভ টু আপিল নিষ্পত্তি করে রোববার আদেশ দেন আপিল বিভাগ।
ঢাকার পারিবারিক আদালতে ইমরান শরীফের করা ফ্যামিলি স্যুট তিন মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দিয়েছেন। এই সময় পর্যন্ত মেয়েরা মায়ের কাছে থাকবে। আর বাবা ইমরান শরীফ সাক্ষাতের সুযোগ পাবেন। হাইকোর্টের রায় বাতিল করে এ আদেশ দেন আপিল বিভাগ।
এরিকোর আইনজীবী শিশির মনিরের তথ্যমতে, ২০০৮ সালের ১১ জুলাই জাপানি নাগরিক ডা. এরিকো নাকানো (৪৬) ও বাংলাদেশি আমেরিকান নাগরিক শরীফ ইমরান (৫৮) জাপানি আইনানুসারে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তারা টোকিওতে বসবাস শুরু করেন। তাদের ১২ বছরের সংসারে তিনজন সন্তান জন্ম নেয়।
তারা হলো- জেসমিন মালিকা (১১), লাইলা লিনা (১০) ও সানিয়া হেনা (৭)। এরিকো পেশায় একজন চিকিৎসক। তিন মেয়ে টোকিওর চফো সিটিতে অবস্থিত আমেরিকান স্কুল ইন জাপানের (এএসজেআই) শিক্ষার্থী ছিল।
২০২১ সালের ১৮ জানুয়ারি ইমরান তার স্ত্রী এরিকোর সঙ্গে ডিভোর্স আবেদন করেন। এরপর ২১ জানুয়ারি ইমরান স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে তার মেয়ে জেসমিন মালিকাকে নিয়ে যাওয়ার আবেদন করেন। কিন্তু তাতে এরিকোর সম্মতি না থাকায় স্কুল কর্তৃপক্ষ তার প্রস্তাব নাকচ করে। পরে স্কুলবাসে বাড়ি ফেরার পথে বাস স্টপেজ থেকে ইমরান তাদের বড় দুই মেয়ে জেসমিন ও লিনাকে অন্য একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যান।
ওই ঘটনার চারদিন পর ২৫ জানুয়ারি ইমরান তার আইনজীবীর মাধ্যমে এরিকোর কাছে সন্তানদের পাসপোর্ট হস্তান্তরের আবেদন করেন। কিন্তু এরিকো তা প্রত্যাখ্যান করেন। এর মধ্যে ২৮ জানুয়ারি এরিকো টোকিওর পারিবারিক আদালতে তার সন্তানদের জিম্মার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ চেয়ে মামলা করেন। আদালত ৭, ১১ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি পারিবারিক সাক্ষাতের আদেশ দেন। ইমরান আদালতের আদেশ ভঙ্গ করে মাত্র একবার মায়ের সঙ্গে দুই মেয়ের সাক্ষাতের সুযোগ দেন।
এদিকে, ৯ ফেব্রুয়ারি মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে ইমরান তার মেয়েদের জন্য নতুন পাসপোর্টের আবেদন করেন এবং ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন পাসপোর্ট নেন। পরে ২১ ফেব্রুয়ারি তিনি দুই মেয়ে জেসমিন ও লিনাকে নিয়ে দুবাই হয়ে বাংলাদেশে চলে আসেন।
গত ৩১ মে টোকিওর পারিবারিক আদালত এরিকোর অনুকূলে জেসমিন ও লিনার জিম্মা হস্তান্তরের আদেশ দেন। পরে ছোট মেয়ে সানিয়া হেনাকে মায়ের কাছে রেখে ১৮ জুলাই এরিকো শ্রীলঙ্কা হয়ে বাংলাদেশে আসেন। পরে তিনি হাইকোর্টে রিট করেন। এরই ধারাবাহিকতায় আদালত গুলশানে একটি ভাড়া বাসায় সবাইকে আলাদা কক্ষে বসবাসের অনুমতি দেন। পাশাপাশি সমঝোতা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। কিন্তু উভয়পক্ষের আইনজীবীরা কয়েকবার বৈঠকেও সমঝোতায় আসতে পারেনি।
সবশেষ ৩০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট মেয়েদের এরিকোর সঙ্গে গুলশানের বাসায় থাকার আদেশ দেন। আর বাবা ইমরান শরীফকে দিনের বেলা তাদের সঙ্গে দেখা ও সময় কাটানোর সুযোগ দেন। পরে ৩১ অক্টোবর ২ রিটের শুনানি শেষে ২১ নভেম্বর রায় দেন হাইকোর্ট।
Thursday, 3 February 2022
'ডিআইজি মিজান বাধ্য হয়ে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ দিয়েছেন'
ঘুষ গ্রহণের মামলায় পুলিশ বাহিনী থেকে বরখাস্ত হওয়া উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমানের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক শেখ নাজমুল আলমের আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়।
তার পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী শুনানি করেন। শুনানিতে তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যমে প্রচারিত প্রতিবেদন, ফোন রেকর্ড ও সাক্ষীদের সাক্ষ্য থেকে এটা প্রমাণিত যে ডিআইজি মিজান বাধ্য হয়ে খন্দকার এনামুল বাছিরকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ দিয়েছেন। তাই চাপের মুখে বাধ্য হয়ে ঘুষ দেওয়াটা অপরাধের মধ্যে পড়ে না। তাছাড়া এ ৪০ লাখ টাকার বৈধতা সম্পর্কেও কোনো প্রশ্ন উত্থাপিত হয়নি। তাই তিনি খালাস পাওয়ার যোগ্য। আমরা আদালতের কাছে ন্যায়বিচারের প্রার্থনা করছি। ’
এরপর খান্দকার এনামুল বাছিরের পক্ষে অপর জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সৈয়দ রেজাউর রহমান যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবেন মর্মে সময় চেয়ে আবেদন করেন। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি বাছিরের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ধার্য করেন।
গত ২৪ জানুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রসিকিউটর মোশাররফ হোসেন কাজল আইন অনুযায়ী আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।
শুনানিকালে ডিআইজি মিজান এবং এনামুল বাছিরকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।
গত ২৩ ডিসেম্বর মামলাটিতে সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়। মামলায় চার্জশিটভুক্ত ১৭ সাক্ষীর মধ্যে ১২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন আদালত।
এরপর গত ৩ জানুয়ারি আত্মপক্ষ শুনানিতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন মিজানুর রহমান এবং এনামুল বাছির। ওই দিন তারা লিখিত বক্তব্য জমা দেবেন বলে আদালতকে জানান। এজন্য তারা সময়ও চান। আদালত ১২ জানুয়ারি আসামিদের লিখিত বক্তব্য জমা দেওয়ার তারিখ ধার্য করেন। ওই দিন ডিআইজি মিজান ৬ পৃষ্ঠা এবং এনামুল বাছির ১২ পৃষ্ঠার লিখিত বক্তব্য আদালতে জমা দেন।
৪০ লাখ টাকার ঘুষ কেলেঙ্কারির অভিযোগে ২০১৯ সালের ১৬ জুলাই দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ দুদকের পরিচালক শেখ মো. ফানাফিল্লাহ বাদী হয়ে মামলাটি করেছিলেন। ২০২০ সালের ১৯ জানুয়ারি তাদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন শেখ মো. ফানাফিল্লাহ।
গত বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ করেন ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কেএম ইমরুল কায়েশ। এরপর তিনি মামলাটি বিশেষ জজ আদালত-৪ এ বদলির আদেশ দেন। গত বছর ১৮ মার্চ আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে চার্জগঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত।
২০১৯ সালের ৯ জুন একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে প্রচারিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে পরিচালিত দুর্নীতির অনুসন্ধান থেকে দায়মুক্তি পেতে দুদক পরিচালক বাছিরকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ দিয়েছিলেন ডিআইজি মিজান। ঘুষ লেনদেন সংক্রান্ত কথোপকথন রেকর্ড করে ওই চ্যানেলকে দিয়েছিলেন মিজান। ডিআইজি মিজানও এ বিষয়ে নিজেই গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেন। অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলা থেকে বাঁচতে ওই অর্থ ঘুষ দেন বলে ডিআইজি মিজান দাবি করেন।
এ প্রতিবেদন প্রচারিত হওয়ার পর দুদক সংস্থার সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখতকে প্রধান করে তিন সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটি ২০১৯ সালের ১০ জুন প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে পরিচালক বাছিরকে দুদকের তথ্য অবৈধভাবে পাচার, চাকরির শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও সর্বোপরি অসদাচরণের অভিযোগে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে কমিশন।
এরপর ২০১৯ সালের ১৬ জুলাই দুদক পরিচালক ও অনুসন্ধান টিমের দলনেতা শেখ মো. ফানাফিল্লা মানি লন্ডারিং আইনে সংস্থার ঢাকা-১ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি করেন। একই বছর ২২ জুলাই এনামুল বাছিরকে গ্রেফতার করে দুদকের একটি দল। সেই থেকে তিনি কারাগারে।
অপরদিকে দুর্নীতির মামলায় গ্রেফতার ডিআইজি মিজানকে এ মামলায়ও গ্রেফতার দেখানো হয়।
.jpeg)

