করোনাভাইরাসের প্রকোপ কমে আসার সঙ্গে সঙ্গে দুই বছর পর অস্ট্রেলিয়ার সরকার পর্যটকদের জন্য তাদের ফ্লাইটগুলো চালু করেছে।
সোমবার
(২১ ফেব্রুয়ারি) থেকে ফ্লাইট চালু হওয়ায় দেশটির ভেতরে ও বাইরের অনেকেই
আনন্দ প্রকাশ করেছেন। টানা দুই বছর ফ্লাইট বন্ধ থাকায় করোনাসময়ে অনেকেই
তাদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। এবার সেই সমস্যার সমাধান হবে বলে
আশা করছেন তারা।
প্রথম
দিনেই ৫০টির মতো ফ্লাইট চালু হবে বলে তথ্য দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। এর
মধ্যে ২৭টি ফ্লাইট সিডনিকেন্দ্রিক বলে জানা গেছে। সিডনি পর্যটকদের জন্য
আকর্ষণীয় একটি স্থান। করোনা-পরবর্তী সময়ে দেশটির পর্যটন খাতের সেই আগেকার
রূপ ফিরিয়ে আনতে দেশটির সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বলেছেন, ‘আমার খুবই ভালো লাগছে। এই দিনটির জন্য আমাদের লম্বা সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে।’
এদিকে
দেশটির বিমানবন্দরগুলোতে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। এমনই এক পিতা সু
উইটন প্রায় দুই বছর পর তার ছেলে সিমনের সঙ্গে দেখা করে আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন।
তিনি
বলেন, ‘আমি ৭২৪ দিন আমার সন্তানের সঙ্গে দেখা করতে পারিনি। এটা আমার কাছে
অনেক বেদনার। আমি তাকে আমার থেকে কখনোই দূরে রাখতে চাই না। অস্ট্রেলিয়ার
সরকারকে ধন্যবাদ। আমি তাদের কাছে কৃতজ্ঞ।’
পর্যটন
খাত অস্ট্রেলিয়ার অনেক বড় একটি অর্থনৈতিক খাত। প্রতিবছর এই খাত থেকে প্রায়
৬০ বিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার (৪২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) আয় হয়। দেশটির ৫
শতাংশ মানুষ সরাসরি এই খাতের সঙ্গে জড়িত। ২০২০ সালের মার্চ মাসে করোনার
কারণে ফ্লাইট বন্ধ করে দেওয়া হলে দেশটির পর্যটন খাত মুখ থুবড়ে পড়ে।
এদিকে
দেশটির পর্যটনমন্ত্রী ড্যান তেহানের দেখা মিলল সিডনি বিমানবন্দরে।
পর্যটকদের স্বাগত জানাতে মন্ত্রী নিজেই বড়দের জন্য ঐতিহ্যবাহী অস্ট্রেলিয়ান
আচার ভেজেমাইট এবং ছোটদের জন্য খেলনা নিয়ে বিমানবন্দরে অবস্থান করছিলেন।
মন্ত্রী
বলেন, ‘একটা উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে এখানে। অনেকে গান গাইছে, অনেকে নিজের
মনে নেচে চলছে আর সবার মুখে হাসি দেখে আমারও খুশি লাগছে।’
ড্যান
তেহান আশা করছেন, অল্প সময়ের মধ্যেই দেশটির পর্যটন খাতে প্রাণ ফিরে আসবে।
চলতি সপ্তাহেই ১৪ হাজারের মতো পর্যটক আসবে বলে আশা করছে দেশটির সরকার।


0 coment rios: