Saturday, 9 April 2022

মায়ের লাশ আটকে রেখে দুই ছেলেকে পুলিশে দিলেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা


খুলনা মেডিক্যাল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে মায়ের মরদেহ আটকে রেখে দুই ছেলেকে পুলিশে দিয়েছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। শনিবার (৯ এপ্রিল) দিবাগত গভীর রাতে এই ঘটনা ঘটেছে। 

 হাসপাতাল ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মহানগরীর দৌলতপুরের পাবলা কারিকর পাড়ার মাওলানা আব্দুর রাজ্জাকের (৬৭) স্ত্রী পিয়ারুন্নেছা (৫৫) শনিবার  দিবাগত রাত ৩টার দিকে খুমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। চিকিৎসায় অবহেলার কারণে মায়ের মৃত্যু হয়েছে এমন অভিযোগ এনে ইন্টার্ন চিকিৎসক কামরুল হাসানের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে ছেলে মো. মোস্তাকিমের। এ ঘটনায় পিয়ারুন্নেছার অপর দুই ছেলেকে আটকে রেখে পুলিশের হাতে তুলে দেন চিকিৎসকরা।  

রোববার (১০ এপ্রিল) সকালে মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘আমার স্ত্রীর বুকে ব্যাথা ও পায়খানা-প্রসাব না হওয়ায় শুক্রবার (৮ এপ্রিল) রাতে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ  হাসপাতালের তৃতীয় তলায় ১১-১২ নং ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। সে রাতে চিকিৎসা করা হয়েছে। শনিবার রাতে আমার স্ত্রীর অবস্থা গুরুতর হলে আমার ছেলে চিকিৎসককে ডাকতে গেলে কেউ আসেননি। উল্টো রোগীকে নিয়ে যেতে বলে। তখন ছেলে বলে রোগীকে কী করে আনব, তিনি তো মোটা মানুষ, আনা সম্ভব নয়। চিকিৎসক তখন কাগজপত্র আনতে বলেন। এরপর কাগজপত্র নিয়ে গেলে ইন্টার্ন চিকিৎসক তা দেখে বলেন, সব তো ঠিক আছে। কিন্তু রোগীকে দেখতে কোনো চিকিৎসক আসেননি। এরপর ওই রাতেই ছটফট করতে করতে আমার স্ত্রী মারা যায়। মায়ের এমন মৃত্যুতে আমার ছেলে মো. মোস্তাকিম গিয়ে চিকিৎসকের কাছে জানতে চায় তারা কেন দেখতে আসলেন না। এ নিয়ে আমার ছেলের সঙ্গে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে হাতাহাতি হয় চিকিৎসকের। আমি বিষয়টি জানতে পেরে চিকিৎসকের হাত-পা ধরে মাফ চাই। বলি আপনারা তো বোঝেন মা মারা গেছে তাই ওদের মাথা ঠিক নেই, আপনারা মাফ করে দেন। এসময় একজন ইন্টার্ন চিকিৎসক আমার গায়েও আঘাত করেন এবং অপর দুই ছেলে মো. তরিকুল ইসলাম কাবির ও সাদ্দাম হোসেনকে পুলিশে দেন। তারা বর্তমানে সোনাডাঙ্গা থানায় আটক রয়েছেন। আর আমার স্ত্রীর মরদেহও হাসপাতালে আটকে রাখা হয়েছে। খবর পেয়ে স্থানীয় কাউন্সিলর শামছুদ্দিন আহমাদ প্রিন্স এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে আসলে তাদের সঙ্গেও খারাপ ব্যবহার করেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।

 


শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: